ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য ট্রেনই আমার কাছে সবসময় সেরা পছন্দ। গত মাসেই আমি ‘তিস্তা এক্সপ্রেস’ করে ময়মনসিংহ গিয়েছিলাম। রাস্তার জ্যাম এড়িয়ে মাত্র ৩ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে পৌঁছানোর যে আনন্দ, তা বাসে কল্পনা করাও কঠিন।
অনেকেই ট্রেনের সঠিক সময়সূচী এবং টিকিট কাটার ঝামেলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। তাই আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে আজ আপনাদের জানাব ঢাকা টু ময়মনসিংহ ট্রেনের আদ্যোপান্ত।
১. আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচী ও ছুটির দিন
ঢাকা (কমলাপুর) থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন বেশ কিছু হাই-স্পিড আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে যায়। নিচে ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট দেওয়া হলো:
| ট্রেনের নাম | ঢাকা থেকে ছাড়ে | ময়মনসিংহ পৌঁছায় | বন্ধের দিন |
| তিস্তা এক্সপ্রেস | সকাল ০৭:৩০ | সকাল ১০:৩০ | সোমবার |
| অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস | সকাল ১১:৩০ | দুপুর ০২:২০ | নেই |
| মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস | দুপুর ০১:১৫ | বিকাল ০৪:১০ | সোমবার |
| যমুনা এক্সপ্রেস | বিকাল ০৪:৪৫ | সন্ধ্যা ০৭:৪৫ | নেই |
| ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস | সন্ধ্যা ০৬:১৫ | রাত ০৯:১০ | নেই |
| হাওর এক্সপ্রেস | রাত ১০:১৫ | রাত ০১:১০ | বুধবার |
আমার টিপস: আপনি যদি দিনের আলোতে সুন্দর প্রকৃতি দেখতে দেখতে যেতে চান, তবে তিস্তা এক্সপ্রেস বা অগ্নিবীণা বেছে নিন। জানালার পাশের সিট নিলে ভাওয়াল গড়ের সবুজের দৃশ্য আপনার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখবে।
২. ২০২৬ সালের সর্বশেষ ভাড়ার তালিকা
ট্রেনের শ্রেণিভেদে ভাড়া ভিন্ন হয়। বর্তমানে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের ভাড়া নিম্নরূপ:
- শোভন চেয়ার: ১৫৫ – ১৬৫ টাকা (সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক)
- স্নিগ্ধা (AC Chair): ২৯৫ – ৩১০ টাকা (গরমের সময় সেরা পছন্দ)
- এসি বার্থ: ৫৫০ – ৬০০ টাকা (রাতের ভ্রমণের জন্য)
৩. অনলাইনে টিকিট কাটার সহজ পদ্ধতি
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হলো, স্টেশনে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর চেয়ে অনলাইনই সেরা।
- Rail Sheba অ্যাপ বা
eticket.railway.gov.bdওয়েবসাইটে যান। - আপনার এনআইডি দিয়ে লগইন করুন।
- যাত্রার তারিখ ও গন্তব্য (Mymensingh) সিলেক্ট করুন।
- বিকাশ বা নগদে পেমেন্ট করলে সাথে সাথেই ই-টিকিট পেয়ে যাবেন।
সতর্কতা: ঈদ বা ছুটির দিনে ভ্রমণের অন্তত ৫-৭ দিন আগে টিকিট কেটে রাখুন, অন্যথায় সিট পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
৪. ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনসমূহ
ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর ট্রেনগুলো সাধারণত নিচের প্রধান স্টেশনগুলোতে থামে:
- ঢাকা বিমানবন্দর (Airport)
- জয়দেবপুর (গাজীপুর)
- গফরগাঁও
- ময়মনসিংহ জংশন
৫. কেন বাসের চেয়ে ট্রেন ভালো? (আমার পর্যবেক্ষণ)
ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়েতে প্রায়ই টঙ্গী বা রাজেন্দ্রপুর এলাকায় দীর্ঘ জ্যাম থাকে। বাসে গেলে অনেক সময় ৪-৫ ঘণ্টাও লেগে যায়। কিন্তু ট্রেনের সময়সূচী প্রায় ৯০% ক্ষেত্রে সঠিক থাকে। এছাড়া ট্রেনের টয়লেট সুবিধা এবং চলাফেরার জায়গা থাকায় দীর্ঘ যাত্রায় ক্লান্তি কম হয়।
৬. পাঠকদের জন্য কিছু জরুরি পরামর্শ
- প্লাটফর্ম নম্বর: কমলাপুর স্টেশনে অনেকগুলো প্লাটফর্ম থাকে, তাই টিকিট চেক করে সঠিক প্লাটফর্মে আগেই গিয়ে দাঁড়ান।
- খাবার: ট্রেনে হালকা স্ন্যাকস পাওয়া যায়, তবে ভালো মানের খাবার নিজের সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
- নিরাপত্তা: মোবাইল বা মানিব্যাগ জানালার পাশে রাখবেন না, বিশেষ করে স্টেশন ছাড়ার সময় সতর্ক থাকুন।
ঢাকা টু ময়মনসিংহ ট্রেন ভ্রমণ নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন (FAQ)
১. ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যেতে ট্রেনে কত সময় লাগে?
- উত্তর: ঢাকা (কমলাপুর) থেকে আন্তঃনগর ট্রেনে ময়মনসিংহ পৌঁছাতে সাধারণত ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট সময় লাগে। তবে মেইল বা লোকাল ট্রেনে ৪-৫ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
২. ঢাকা টু ময়মনসিংহ ট্রেনের টিকিট কি অনলাইনে পাওয়া যায়?
- উত্তর: হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (
eticket.railway.gov.bd) অথবা ‘Rail Sheba‘ অ্যাপের মাধ্যমে আপনি সহজেই ঘরে বসে টিকিট কাটতে পারেন। অগ্রিম টিকিট যাত্রার ৫-১০ দিন আগে থেকেই পাওয়া যায়।
৩. ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার সবচেয়ে ভালো ট্রেন কোনটি?
- উত্তর: সময়ের সঠিকতা এবং আরামের দিক থেকে তিস্তা এক্সপ্রেস (সকাল ৭:৩০) এবং অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস (সকাল ১১:৩০) সবচেয়ে জনপ্রিয়। আপনি যদি রাতে ভ্রমণ করতে চান তবে ব্রহ্মপুত্র বা হাওর এক্সপ্রেস বেছে নিতে পারেন।
৪. শিশুদের জন্য কি আলাদা টিকিট কাটতে হয়?
- উত্তর: ৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য সাধারণত টিকিটের প্রয়োজন হয় না। তবে ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য অর্ধেক মূল্যের (হাফ টিকিট) ব্যবস্থা আছে। ১২ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য পূর্ণ মূল্যের টিকিট বাধ্যতামূলক।
৫. বিমানবন্দর স্টেশন থেকে কি এই ট্রেনগুলোতে ওঠা যায়?
আরো পড়ুন- সিলেট টু ঢাকা পারাবত ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
উপসংহার
ঢাকা টু ময়মনসিংহ ট্রেন ভ্রমণ মানেই যান্ত্রিক শহর থেকে সবুজের সান্নিধ্যে দ্রুত পৌঁছে যাওয়া। উপরের চার্ট দেখে আপনার পছন্দমতো ট্রেন বেছে নিন। আপনার ভ্রমণ আনন্দদায়ক হোক!
