৩০ দিনের শিশু নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন মা

গাজীপুর সদরের ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজে এক পরীক্ষার্থী ৩০দিন বয়সী শিশুপুত্রকে নিয়ে স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। মা সানজিদা হক ভাবনা বাংলা স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পরীক্ষার হলে কান্না করলে অন্যদের সমস্যা যাতে না হয় তার জন্য শিশুকে পরীক্ষা কেন্দ্রের একটি কক্ষে নানীর কাছে রেখে ভাবনা পরীক্ষা দিচ্ছেন।

সরেজমিনে বুধবার সকালে কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, ভাবনা হলে পরীক্ষা দিচ্ছেন। আর তার শিশুটিকে কোলে নিয়ে হলের বাইরে একটি কক্ষের ভেতরে ভাবনার মা বসে আছেন। সেখান থেকে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনেই জানা গেল ভাবনার পরীক্ষার খবর। মায়ের কোল আর নানীর কোলের পার্থক্য যেন শিশু টের পাচ্ছে। এজন্যই মা কিছু সময় পর পরই শিশুর কাছে চলে যান। তাকে দুধ পান করিয়ে শান্ত করে আসেন শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, সানজিদার বাড়ি গাজীপুর মহানগরের সালনার কাথোরার পলাশটেক এলাকায়। পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পরীক্ষা দেয়ার জন্য তিনি কয়েকমাস আগেই স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি চলে আসেন।

কলেজের বাংলা বিষয়ের প্রভাষক মো. খোরশেদ আলম দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, তিনি ভাবনার হলেই নির্বাচনী পরীক্ষার ডিউটিতে ছিলেন। পরীক্ষা দিলেও ভাবনার মনে যেন সব সময় একটা টেনশন কাজ করছিলো। কারণ জানতে চাইলে শোভা সব খুলে বলেন। পরীক্ষা চলাকালে শিশুকে খাওয়ানোর জন্য শোভা অনুমতি নিয়ে দুইবার হল থেকে শিশুর কাছে গেছেন। আর চার ঘন্টার পরীক্ষার সময় শেষ হওয়ার এক ঘন্টা আগেই শোভা উত্তরপত্র জমা দিয়ে পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে যান।

এ ব্যাপারে শোভা জানান, একবছর আগে তার বিয়ে হয়েছে। স্বামী এক ঔষধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। সিজারের মাধ্যমে এক মাস আগে তাদের পুত্রসন্তান জন্ম হয়েছে। চিকিৎসক আমাকে ৪০দিন আমাকে বাইরে চলাফেরা করতে বারণ করেছেন। কিন্তু তাকে আমি আমার পরীক্ষার বিষয়ে কিছুই জানাইনি। চল্লিশ দিন পার না হলেও আমাকে অনেক কিছু বিবেচনায় পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। এ পরীক্ষা দিতে না পরলে আমার একটা বছর লস হতো। এ ভবিষতে এ লস উঠাতে সময় পাবো কি-না তা অনিশ্চিত। আমার সন্তান হয়তো এ সময়ে বড় হয়ে যাবে। কিন্তু আমার এ সময়তো আর ফিরে আসবে না। আমার ও আমার সন্তানের কিছুটা কষ্ট হবে জেনেও তাই পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম। ভবিষ্যতে আমি শিক্ষকতা করতে চাই। আর এজন্য ভালভাবে লেখাপড়ার বিকল্প নেই।

Leave a Comment