হজের খরচ জনপ্রতি আরও বাড়ল ৫৯ হাজার টাকা

সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের খরচ ৫৯ হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সৌদি আরবে খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের হজযাত্রীদের জন্য এ অর্থ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এ জন্য তফসিলি ব্যাংকগুলো শনিবারও খোলা থাকবে। আগামী সোমবারের (৩০ মে) মধ্যে এই টাকা জমা দিতে হবে হজযাত্রীদের।

হজ প্যাকেজ ১-এ আগে ছিল ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়াবে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৪০ টাকায়। অন্যদিকে, প্যাকেজ ২-এ আগে ছিল ৪ লাখ ৬২ হাজার ১৫০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়াবে ৫ লাখ ২১ হাজার ১৫০ টাকায়। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে আগে ছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এখন হবে ৫ লাখ ২২ হাজার ৭৪৪ টাকা।

প্যাকেজ ঘোষণার পর সৌদি সরকারের অতিরিক্ত কোনো চার্জ আরোপ করা হলে তা প্যাকেজমূল্য হিসেবে গণ্য হবে এবং হজযাত্রীকে পরিশোধ করতে হবে। কোনো অর্থ অব্যয়িত থাকলে তা হাজিদের ফেরত দেওয়া হবে’– এই শর্তে গত ১১ মে হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। করোনা মহামারির কারণে সৌদি সরকারের হজের ঘোষণার বিলম্বের জন্য এবং সৌদি আরব থেকে প্রকৃত খরচের বিবরণী না পাওয়ায় সম্ভাব্য ব্যয় বিবেচনা করে প্রভিশনাল হজ প্যাকেজ প্রস্তুত করা হয়েছিল।

উন্নতমানের বাস সার্ভিস, ট্রেন ভাড়া এবং বাড়িভাড়া থেকে উভয় প্যাকেজে কিছু অর্থ সাশ্রয় করা গেছে। সাশ্রয় এবং বাংলাদেশের হজযাত্রীদের আর্থসামাজিক অবস্থা ও হজযাত্রীদের প্রতি বর্তমান সরকারের সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে উভয় প্যাকেজে সৌদি আরবে আবশ্যকীয় ব্যয় ৫৯ হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই ব্যয় বৃদ্ধি অনুমোদন করা হয়েছে।

টাকা গ্রহণের জন্য সরকার ২৮, ২৯ ও ৩০ মে সময় নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটি। এ লক্ষ্যে আগামী শনিবার (২৮ মে) দেশব্যাপী তফসিলি ব্যাংকসমূহ খোলা রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীরা সমপরিমাণ অর্থ নিজ নিজ এজেন্সির ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে।

Leave a Comment