তুরস্কের প্রথম সারির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ

ইয়াবাঞ্জি উইরুকলু অরেঞ্জি সিনাভি-ইয়োস (Yabancı Uyruklu Öğrenci Sınavı-YÖS) ইংরেজিতে Examination for International Student এখন বাংলাদেশে। ইয়োস (YÖS) হচ্ছে তুরস্কের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় নিজ খরচে পড়ার জন্য ভর্তি পরীক্ষা। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্বভাবে এ পরীক্ষার আয়োজন করে। ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়, সুলেমান দেমিরেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এর আগে বাংলাদেশে এ পরীক্ষার আয়োজন করেছে।

গত দুই বছর করোনার কারণে ইয়োস পরীক্ষা আয়োজন করা হয়নি। তবে এ বছর তুরস্কের প্রাচীন ও র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রথম সারির ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় কারাদেনিজ টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (Karadeniz Teknik Üniversitesi) বিদেশি শিক্ষার্থীদের তুরস্কে এসে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ভারত ও পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশেও ইয়োস পরীক্ষার আয়োজন করতে যাচ্ছে।

এ পরীক্ষাকে অনেকেই আমেরিকান কলেজ টেস্টিং (এসিটি) অথবা স্কলাস্টিক অ্যাপ্টিটিউড টেস্টের (এসএটি) সঙ্গে তুলনা করেন। তবে এটা সহজ একটি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় পাস করার মাধ্যমে আপনি সরাসরি কারাদেনিজ টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবেন।

এ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে যে শুধু কারাদেনিজ টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়তে হবে তা কিন্তু নয়, কারাদেনিজ ছাড়াও আরও ২২টির অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পরীক্ষার সার্টিফিকেট দিয়ে সরাসরি ভর্তি হতে পারবেন।

bdnews88
কারাদেনিজ টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার।ছবি: কারাদেনিজ টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট

তুরস্কে সরাসরি ডিপ্লোমা তথা সার্টিফিকেট দিয়ে আবেদন গ্রহণ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অনেক কম। অল্প খরচে তুরস্কের প্রথম সারির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাইলে এ পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।

এ পরীক্ষার মাধ্যমে যেসব বিভাগে পড়া যাবে, সেগুলো হলো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সব বিভাগ, আর্কিটেকচার, ফার্মেসি, মেডিসিন, লিটারেচার প্রভৃতি। আরও বিস্তারিত জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারেন।

কোন ভাষায় পড়বেন
তিন ধরনের সুযোগ রয়েছে এখানে। শতভাগ টার্কিশ ভাষা, ৭০ ভাগ টার্কিশ ও ৩০ ভাগ ইংরেজি এবং শতভাগ ইংরেজি ভাষায় পড়া যায়। শতভাগ টার্কিশ ভাষায় পড়তে এক বছরের ভাষা কোর্স করতে হবে। এরপর নিজ বিভাগে এ পড়াশোনা শুরু হবে।

বুরসা টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি। ছবি: বুরসা টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট
বুরসা টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি। ছবি: বুরসা টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট

৭০ ভাগ টার্কিশ ভাষার জন্যও সমান এক বছরের ভাষা কোর্স লাগবে। আর পাশাপাশি ৩০ ভাগ ইংরেজির জন্য টার্কিশ ভাষা কোর্স শেষ করার পর এবং ক্লাস শুরুর আগে ইংরেজি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষা দিতে হবে। যদি পাস করে যেতে পারেন, তবে সরাসরি বিভাগে ক্লাস শুরু করবেন। অন্যথায় চার মাস, মানে এক সেমিস্টার ক্লাস করে নিজের ভাষা দক্ষতাকে বি–ওয়ান লেভেলে নিয়ে আবার পরীক্ষা দিতে হবে। এখানে পাস করে গেলে বিভাগে ক্লাস করার সুযোগ পাবেন। আর পাস করতে না পারলে বাকি চার মাস ক্লাস করে তবেই বিভাগে ক্লাস করতে পারবে।

শতভাগ ইংরেজির জন্য বি–টু লেভেলের ইংরেজিতে দক্ষ হলেই চলবে। ভর্তি হওয়ার পর ডিপার্টমেন্ট শুরুর আগে ইংরেজি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষা দিতে হবে। এ পরীক্ষায় যদি পাস করতে পারেন, তবে সরাসরি ডিপার্টমেন্টে ক্লাস শুরু করবেন। তা না হলে আগের মতো চার মাস তথা এক সেমিস্টার ক্লাস করে নিজের ভাষা দক্ষতাকে বি–টু লেভেলে নিয়ে আবার পরীক্ষা দেবেন। এখানে পাস করে গেলে ডিপার্টমেন্টে ক্লাস করার সুযোগ পাবেন। আর পাস করতে না পারলে বাকি চার মাস ক্লাস করে তবেই ডিপার্টমেন্টে ক্লাস করতে পারবেন। তবে আইইএলটিএস ও টোয়েফলেরর মতো কোনো পরীক্ষা দিতে হবে না। আর যেহেতু টার্কিশ কোনো কোর্স নেই, তাই এ ভাষাও শিখতে হবে না।

এটি শুধু কারাদেনিজ টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্কে তাদের ওয়েবসাইট থেকে খোঁজ নিয়ে জানতে হবে।

পরীক্ষার স্থান
পরীক্ষার স্থান এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় পরে ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এ পরীক্ষা।

পরীক্ষার ফি
পরীক্ষার ফি মাত্র ২৫ ডলার। পরীক্ষায় পাস করার পর ভর্তির জন্য আর কোনো অতিরিক্ত খরচ নেই। শুধু সেমিস্টার ফি দিতে হবে, যা ডিপার্টমেন্টভেদে কমবেশি হতে পারে। টিউশন ফির তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। তবে এখনো পরীক্ষার স্থান নির্ধারণ করা হয়নি, তাই ফি পরিশোধ করতে হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পরীক্ষার সময় ও স্থান জানিয়ে দেওয়া হবে। পরীক্ষার স্থান নির্ধারিত হওয়ার পরে ফি পরিশোধ করবেন।

টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক
কারাদেনিজ টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক।ছবি: কারাদেনিজ টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট

কী কী বিষয়ে পরীক্ষা হবে
এই লিংকে বিগত বছরের একটি প্রশ্নপত্র উত্তরসহ দেওয়া আছে। এটি দেখলে ধারণা নেওয়া সহজ হবে এ বছর কেমন প্রশ্ন হতে পারে।
কারাদেনিজ টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও ইয়োসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে আবেদনের লিংক

Apply now bdnews88

তবে এই লিংকের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। এর কারণ বাংলাদেশকে পরে যুক্ত করা হয়েছে, তালিকাটি এখনো আপডেট করা হয়নি। আবেদন করার সময় পরীক্ষার স্থান হিসেবে বাংলাদেশকে চয়েজ করতে পারবেন।

কারাদেনিজ টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য এই লিংকে গিয়ে পিডিএফটি ডাউনলোড করতে হবে। এই লিংক থেকে ভিডিও চিত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি জানা যাবে।

আবেদনের শেষ তারিখ: ৬ জুন ২০২২।

লেখক: বশির উল্লাহ। bashir_ullah19@trabzon.edu.tr

Leave a Comment