1. admin@bdnews88.com : admin :
ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাওয়া সেই আলমগীরকে ঘিরে যত রহস্য! - বিডি নিউজ
July 2, 2022, 4:21 pm
Breaking News:

ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাওয়া সেই আলমগীরকে ঘিরে যত রহস্য!

  • Update Time : Friday, April 29, 2022
  • 67 Time View
বিনিময়ে পড়াতে চাওয়া সেই আলমগীরকে ঘিরে যত রহস্য

শুধুমাত্র দু-বেলা ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাই’ বৈদ্যুতিক পোল ও দেয়ালে দেয়ালে এমন বিজ্ঞাপন দিয়ে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হন আলমগীর কবির নামে এক যুবক। কিন্তু সত্যিই কি তিনি এতটা অভাবগ্রস্ত যে শুধু ভাতের বিনিময়ে গৃহশিক্ষকতা করতে চান! নাকি এর ভেতরে রয়েছে অন্য কোনো কারণ এমন প্রশ্ন উঠেছে বগুড়ায়।

সাদা কাগজে প্রিন্টআউটে ঐ বিজ্ঞাপনে তার নাম আলমগীর কবির লেখা থাকলে স্কুল-কলেজের সনদপত্রে তিনি আলমগীর হোসেন। তিনি পড়াশোনা শেষ করে চাকরির খোঁজ করছেন। তবে চাকরি না পাওয়ায় হতাশগ্রস্ত হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে। আলমগীরের সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও রয়েছে বিভিন্ন পোস্ট। এবং তার ফেসবুক আইডি দেখে বোঝার কোনো উপায়ই নেই যে তিনি এতটা অভাবগ্রস্ত! সবমিলিয়ে আলমগীরের বিজ্ঞাপন রহস্যেঘেরা।

আলমগীর বিজ্ঞাপনে লেখেন, তিনি প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অঙ্ক ছাড়া সব বিষয়েই পড়াতে পারবেন। সাদা কাগজে প্রিন্টআউটে তার ফোন নম্বরও উল্লেখ আছে। এছাড়াও সেখানে লেখা আছে বগুড়া জহুরুলনগরের আশেপাশে এলাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াতে (গৃহশিক্ষক) চান তিনি। সকাল ও দুপুরের ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চান তিনি। ঐ বিজ্ঞাপনটি তিনি বগুড়া শহরের জহুরুলনগর এলাকায় দেন। কেউ একজন এটির ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করেন। পরে এটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩২ বছর বয়সী আলমগীর জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার শরাইল গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা নাম মো. কফিল উদ্দিন। কফিল উদ্দিন পেশায় পল্লী চিকিৎসক। আলমগীরের মা গৃহিনী, নাম আম্বিয়া বেগম। পাঁচ সন্তানের মধ্যে আলমগীর সবার ছোট। তার বড়ভাই রুহুল আমিন শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। তার বড় তিন বোন রুপালী, নূরজাহান ও সুরাইয়া। তার বড় বোন নূরজাহান ছেলে সন্তানকে নিয়ে তাদের (আলমগীর) বাড়িতেই থাকে। স্বামীর সঙ্গে নূরজাহানের ছাড়াছাড়ি হয়েছে।

আলমগীর বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স করেন। তিনি বগুড়া শহরের জহুরুলগর একতলা মসজিদ এলাকার পাশের একটি বাড়িতে বিনাভাড়ায় বসবাস করেন।

আলমগীরের ফেসবুকে যত অ’শ্লীল পোস্ট

1638305992

আলমগীরের সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেখা গেছে অশ্লীল পোস্টের ছড়াছড়ি। তিনি তার ফেসবুকে বেয়ারক্যানের বোতলসহ অ্যালকোহল সেবনের জন্য কোমলপানীয়র ছবি পোস্ট করেন। সেখানে লেখেন বিন্দাস হয়ে নাচো রে, বিন্যাস হয়ে বাঁচো রে, অল ডে নাইট। তার আরও একটি ফেসবুক পোস্টে দেখা যায় মূলা হাতে নিয়ে আসেন। এবং ক্যাপশনে লেখেন ‘ হাই বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই..? আমি এসে গেছি তোমাদের লেপ গরম করতে।’ ফেসবুকে তার বিজ্ঞাপন ভাইরাল হওয়ার পর তিনি ফেসবুক ডে দিয়ে লেখেন ‘পড়াতে চাই লিখে পোস্টার লাগিয়েছি.. এ পর্যন্ত চারটা মেয়ে ফোন দিয়ে সরাসরি বিয়ে করতে চেয়েছে, মানুষ এতটা মানবিক হয় কি করে???

এছাড়াও তার ফেসবুকে দেখা গেছে শরীরের পোশাক খুলে অশ্লীল ভঙ্গিতে নিজের একটি ছবি আপলোড করেন। ঐ ছবির ক্যাপশনে লেখেন ‘কারো করোনার টিকা দেওয়ার ডেট ভুলে আমার কাছে এসো!

আলমগীরকে েখুঁজে পেয়েছে পুলিশ

আলমগীরের বিজ্ঞাপনটি কেউ একজন ছবি তুলে ফেসবুকে ছেড়ে দেন। এরপরেই এটি নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। পরে তার বিষয়ে পুলিশ খোঁজ খবর নিতে পুলিশ তাকে খোঁজা শুরু করে। কিন্তু আলমগীরের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় ও বগুড়া শহরের জহুরুলনগর এলাকায় গিয়ে তার দেখা পায়নি পুলিশ। খোঁজা খুঁজির একপর্যায়ে আলমগীরের সন্ধান পায় পুলিশ।

বুধবার দুপুরে বগুড়া এসপি অফিস কার্যালয়ে আসেন আলমগীর। সেখানে তার সঙ্গে কথা বলেন এসপি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী। এ সময় তার কাছে থেকে বিস্তারিত কথাবার্তা শোনেন এসপি।

এসপি সুদীপ জানান, আলমগীরের দেয়া ঐ বিজ্ঞাপনের বিষয়ে যাচাই করতে তার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। জানা গেছে তার চাকরি প্রয়োজন আছে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তার চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। তার যোগ্যতা অনুযায়ী তাকে নিয়োগ দেয়া হবে।

আলমগীর জানান, তার চাকরির প্রয়োজন ছিল। একারণে তিনি বিজ্ঞাপন দেন।

বগুড়া আজিজুল কলেজের শিক্ষার্থী ও জেলা ছাত্রলীগ নেতা মো. তৌহিদ হাসান বলেন, ‘আমি যতদূর জানি আলমগীরের পারিবারিভাবে অসচ্ছল। তবে তার ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাওয়া বিজ্ঞাপনটি ঘিরে রহস্য আছে। তিনি কেন এমন বিজ্ঞাপন দিলেন তা পরিষ্কার না। আলমগীরের ফেসবুকে দেখা যায় অশ্লীল পোস্টের ছড়াছড়ি। আসলে আলমগীরের পুরোটা জুড়েই রহস্য।’

বগুড়া আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বলেন, ‘আলমগীরের ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাওয়া বিজ্ঞাপনটিসহ আসলে ভুয়া। কেন এমন বিজ্ঞাপন সে দিয়েছে এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’

চাকরি পেলেন ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাওয়া সেই আলমগীর

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category