অনুরোধ, মেডিকেলে প্রথম হয়ে পরে আবার বিসিএস দেবেন না

২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪২ জন মেডিকেল কলেজে ভর্তি প্রত্যাশীদের মধ্যে যে ৭৯ হাজার ৩৩৭ জন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। যদিও আসন সাপেক্ষে তাদের মধ্যে প্রথম ৪ হাজার ৩৫০ জন পরীক্ষার্থী ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন।

এবার মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সুমাইয়া মোসলেম মিম। তিনি ভর্তি পরীক্ষায় সুমাইয়া ৯২ দশমিক ৫ নম্বর পেয়েছেন। সব মিলিয়ে তাঁর মোট প্রাপ্ত নম্বর ২৯২ দশমিক ৫।

তার চেয়ে বড় সংবাদ হল এতে তিনি ফেসবুক ট্রেন্ডিং তথা পপুলার নাও-এ পরিণত হয়েছেন। কারণ, এই মুহূর্তে অসংখ্য মানুষ তাঁর নাম লিখে ফেসবুকে সার্চ করছেন। বিষয়টি বেশ ভালোও লাগছে। আমি চাই, এদেশের মানুষ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কৃষিবিদ, বিজ্ঞানী, শিক্ষকসহ সকল পেশার মানুষকে সম্মান করুক। তাদের নিয়ে আগ্রহ থাকুক।

অনুরোধ রইল, এত কষ্ট করে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সারাদেশে প্রথম হয়ে এমবিবিএস শেষ করে যেন বিসিএস জেনারেল ক্যাডারে গিয়ে নিজের পেশা পরিবর্তন না করেন। সুমাইয়া মুসলেম মিমসহ যারা মেডিকেলে পড়াশোনা করবেন, তারা যেন শুধু দেশসেরা নয় বিশ্বসেরা ভালো ও বড় মাপের ডাক্তার হতে পারেন। এটাই যেন তাঁদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হয়।

বাংলাদেশে এখনও ভালো ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তীব্র সংকট বিদ্যমান। সেটা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগীদের দেখলেই বোঝা যায়। একজন মেডিকেল বা বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হলে বা চান্স পেলে সেটা যে গর্বের বিষয় হয়, সেটা কেন ৪ বা ৫ বছর পর এমবিবিএস বা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে বড় ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হলে কিংবা নিজের পেশাগত বিসিএস ক্যাডারে উত্তীর্ণ হলে থাকে না?

মিডিয়া কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া কেন তাঁদের সেভাবে হাইলাইট করে না? আর তাঁরাই বা কেন নিজের পঠিত বিষয়ের পেশায় যেতে ইচ্ছুক হয় না? কেন আমরা তাঁদের পেশায় ধরে রাখতে পারি না? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া না গেলে সামনে হয়তো আমাদের জন্য খুব খারাপ সময় অপেক্ষা করছে।

লেখক:গাজী মিজানুর রহমান, ৩৫তম বিসিএস ক্যাডার, লেখক ও মোটিভেশনাল স্পিকার

Leave a Comment