বিসিএসে সাফল্য : টিউশন আমার কাজে এসেছে!

সদ্য পুলিশ ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আবদুল আজিজ ভূঁইয়া। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ছেড়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। নানান জটিলতায় ক্যাম্পাসজীবন শুরু হয় তার। তবু আজ স্বপ্ন ছুঁয়েছেন তিনি পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট আবদুল আজিজের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে কথা হয় আরটিভি অনলাইনের কুমিল্লা সংবাদদাতা সাফায়িত সিফাতের

প্রশ্নঃ বিসিএসের প্রতি আপনার আকর্ষণ কি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শুরু থেকেই ছিল?
আবদুল আজিজ : প্রথমেই আমার বিসিএসের দিকে এতটা আগ্রহ ছিল না। শুরুতে শুধু একাডেমিক পড়ায় আগ্রহ ছিল। সিজিপিএ বাড়াতে হবে এমন একটা চিন্তা মাথায় ছিল। আর আমার আব্বা মারা যাওয়ার পর আমার পরিবর্তন আসে। চাকরির বিষয়ে বেশি চিন্তা করা শুরু করি।

প্রশ্ন: বিসিএসের প্রস্তুতি কবে থেকে শুরু করেছিলেন?
আবদুল আজিজ : বিবিএ-এর শেষের দিক থেকে বিসিএস-র প্রস্তুতি শুরু করি। এত পরে ৪০তম বিসিএসের টার্গেট করা প্রচণ্ড রিস্কি ছিল ব্যাপারটা। কিন্তু আমি কনফিডেন্টও ছিলাম যে আমি পারব।

প্রশ্ন: কোন কোন বিষয়ের প্রতি আপনার বেশি আগ্রহ ছিল?
আবদুল আজিজ : মূলত গণিত, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানের আগ্রহ আমাকে আজকের এই জায়গায় নিয়ে এসেছে।

প্রশ্ন: অন্য কাউকে অনুসরণ করেছেন নাকি নিজের মতো গুছিয়ে নিয়ে পড়াশোনা করেছেন?
আবদুল আজিজ : আমি নিজের স্টাইল ফলো করেছি, অন্য কারো সিস্টেম ফলো করিনি।

প্রশ্ন: স্নাতক-স্নাতকোত্তরের পাশাপাশি টিউশন করতেন?
আবদুল আজিজ : হ্যাঁ, আমি টিউশন করতাম। আর এই টিউশন করাটাই আমার কাজে এসেছে। টিউশনের মাধ্যমে কিছু পড়া প্র‍্যাক্টিসের মধ্যে ছিল।

প্রশ্ন: বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কোনো সংগঠনে ছিলেন?
আবদুল আজিজ : বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। চমৎকার কিছু মানুষ পেয়েছিলাম এখানে। লেনিন ভাই, লিপা আপু, আদনান, আবদুর রহমান, সানি ভাই-এর মতো তুখোর কিছু বিতার্কিকদের সঙ্গে সেখানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাই। সেই থেকে আসলে লাইফের শুরুটা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ভালোভাবে সংযুক্ত হই। আর একাডেমিক পড়ায় আগ্রহ আরও বাড়ে আমার।

প্রশ্ন: বিসিএসের প্রতি আপনার ইচ্ছাশক্তি কেমন ছিল?
আবদুল আজিজ : আসলে প্রচণ্ড রকম একটা আবেগ না থাকলে বিসিএস জয় করাটা কষ্ট। এর প্রতি আমার অনেক বেশি আবেগ ও ইচ্ছাশক্তি ছিল।

প্রশ্ন: বাবা মারা যাওয়ার পর আপনার আর্থিক সমস্যা হয়নি?
আবদুল আজিজ : আমার সেজো বোন আমাকে আর্থিক অভাবটা কখনো বুঝতে দেননি। তিনি আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছেন।

প্রশ্ন: আপনার সফলতার পেছনে সহায়ক ছিল কী কী বিষয়?
আবদুল আজিজ : আমাকে কয়েকটা জিনিস হেল্প করেছে, তা হলো ডিবেট, টিউশন এবং আমার কঠিন সময়। আর সবচেয়ে বড় বিষয় আমার পরিচিত যারা ছিল তারা কেন জানি আমার ব্যাপারে অনেক পজিটিভ ছিল। বেশির ভাগ মানুষই বলত, আমার বিসিএস হয়ে যাবে। তাদের প্রত্যাশা আমার ভেতরে সাহস জুগিয়েছে।

Leave a Comment