৪০তম বিসিএসে বিবাহিতদের জয়জয়কার

এবারের বিসিএসে বিবাহিত মানুষের সফলতা দেখা যাচ্ছে- এর একটা অন্তর্নিহিত কারণ আছে। আমরা যতই বলি একা চলা যায়, একা সফল হওয়া যায়- কিন্তু বাস্তবতা হলো আমরা কেউ একা চলি না বা একা এগিয়ে যাই না, মানুষ একা চলার জীব না।

জন্মের পর থেকে আমাদের বাবা-মায়েরা আমাদের আগলে রাখেন। ইন্টার লেভেল পর্যন্ত লাইফে খুব গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ হলো মা। তার সাথে আমরা মন খুলে সব বলি, লাইফের নানা ডিসিশনে মা আমাদের সঙ্গী হয়। কিন্তু ইন্টার ছেড়ে যখন ভার্সিটিতে উঠে যাই তখন লাইফের নতুন এক ডাইমেনশন শুরু হয়।

বাবা-মায়ের সাথে আস্তে আস্তে দূরত্ব বাড়তে থাকে মেজরিটি মানুষের ক্ষেত্রেই। সারাদিন ভার্সিটি-স্টুডেন্ট পড়ানো-ফ্রেন্ডদের সাথে আড্ডার পর বাসায় এসে বাবা-মায়ের সাথে খুব বেশি কথাই হয় না আমাদের।

আর যত যাই বলেন আমাদের সাথে আমাদের বাবা-মায়েদের এক বিশাল জেনারেশন গ্যাপ হয়ে গেছে। তাই অনেক কিছুই থাকে যা বাবা-মাকে শেয়ার করাটাও সহজ হয় না। তখন লাইফে প্রয়োজন হয় একজন মানুষের যার সাথে মনের ভাব শেয়ার করতে পারব, যার সাথে সারাদিনের কথা বলতে পারব।

একটা পথে হাটতে চাই যে পথে সফল হতে পারব। সেই পথটা কতুটুকু সুন্দর হবে বা কীভাবে চলব সেই মানুষটার সাথে তা নিয়ে আলোচনা হবে, থেমে যেতে নিলে সে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা যোগাবে।

আসলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে অনুপ্রেরণা যোগানোর জন্য, আমি আছি এগিয়ে যাও তুমি বলার মত একজন খুব বড্ড প্রয়োজন। এমন একজন মানুষ পেলে তাকে কোনভাবেই হারাতে দেওয়া উচিত না।

আমার নিজের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় কেটেছিল এমন একজন মানুষের অনুপ্রেরণাতেই। বারবার হাল ছেড়ে দিলেও এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পাওয়া যায় এমন মানুষগুলো খুব দামী। তাদের হারালে জীবনে অন্ধকার নেমে আসে, মানসিক ও আত্নিক সব প্রশান্তি জীবন থেকে চলে যায়। জীবনটা যে কত কঠিন হয়ে যায় তা বুঝতে পারছি এখন হাড়ে হাড়ে।

এই অনুপ্রেরণা, বিশ্বাস ও ভরসা পেয়েই বিবাহিত ছেলে বা মেয়েটা নিশ্চিন্তে পড়তে পেরেছে। বিসিএসের প্রিপারেশন নেওয়ার হাসি-কান্না হতাশার মাঝে একটা কাঁধ পেয়েছে নিজেকে উপশম করার, তুমি পারবা এগিয়ে যাও বলার। আর সাথে আল্লাহর এক বিশেষ রহমত তো পেয়েছে তারা।

হয়ত অনেকের গল্প ভিন্ন হতে পারে। জিদ ও নিজের উপর আত্নবিশ্বাস থেকে একা মানুষও অনেক কিছু করতে পারে। কিন্তু জীবনসঙ্গী হিসেবে একজন ফেরেশতার মতন অভিভাবক যারা পায় তাদের জীবনে সফলতা আর মানসিক শান্তি একসাথেই আসে। [ফেসবুক থেকে সংগৃহীত]লেখক:সাদিকুর রহমান সাদাব, শিক্ষার্থী, মুগদা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

Leave a Comment