ধৈর্যকে শক্তি করে বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারে ২য় হলেন ঢাবির মোরশেদুর

আমার পড়ার টেবিলের এক কোনায় সব সময় থাকত ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের একটি ছবি। ওই ছবিটি দেখলেই মনে এক আশ্চর্য শক্তি পেতাম আমি, সে শক্তি ধৈর্যের। আমি জীবনে সফল হওয়ার জন্য ধৈর্য নামের অদৃশ্য চাবিটি পেয়েছি শচীনের পথচলা থেকেই। আর বাবার অনুপ্রেরণা, সে তো অন্য এক জীবনীশক্তি।

সেই পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তি পাওয়ার পর স্বপ্ন দেখতাম আইনজীবী হওয়ার। এরপর আবার যখন অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তি পেলাম, স্বপ্ন উজ্জ্বল হতে থাকল।প্রথম বিভাগ নিয়ে এসএসসি পাস করার পর ২০০০ সালে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হই রংপুর পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। তখন একটি অজানা স্বপ্ন পেয়ে বসে। সেই স্বপ্নটি হলো, আমাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেই হবে!

এইচএসসিতে প্রথম বিভাগে পাস করার পর সে স্বপ্নও পূরণ হলো। কিন্তু ছেদ পড়ে গেল ছোটবেলা থেকে লালন করা সেই আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন। সেই দুঃখ ঘুচে গেল রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়া শুরু করার পর থেকেই। বিষয়টি আমার পছন্দ হলো ভীষণ। তখন থেকে স্বপ্ন মোড় নিল অন্যদিকে।স্থির হলো সে স্বপ্ন, পররাষ্ট্র ক্যাডার হয়ে নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার। স্নাতক শেষ হলো।

ফলাফল খুব বেশি ভালো হলো না। তবে প্রথম শ্রেণীতে স্নাতকোত্তর শেষকরে ২৮তম বিসিএস পরীক্ষা দিলাম। সব পরীক্ষা শেষে দেখি, আমি বিসিএসের চূড়ান্ত তালিকায় টিকে গেছি। কিন্তু আমার পছন্দের বিষয় পররাষ্ট্র না পেয়ে পেয়েছি রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ানোর দায়িত্ব। মানে, শিক্ষা ক্যাডারে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

যোগ দিলাম রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে। তারপর ২৯তম, ৩০তম, ৩১তম বিসিএস পরীক্ষার প্রতিটিতে মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত গেলাম। কিন্তু আমার স্বপ্ন পূরণ হলো না। অবশেষে ৩৩তম বিসিএসে আমি আমার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছি।তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো

Leave a Comment